টাঙ্গাইল মির্জাপুরে স্ত্রীকে গোপনে তালাক দিয়ে প্রবাসে পালানো নাজিম দেওয়ান তিন বছর পর গ্রে প্তার!
স্ত্রীকে গোপনে তালাক দিয়ে তিন বছরের কন্যাসন্তানকে ফেলে রেখে আত্মগোপনে থেকে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করা নাজিম দেওয়ানকে তিন বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ইউনিয়নপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও মাম লা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে নাজিম দেওয়ান ও ফাহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের পাঁচ বছর পর ২০২২ সালে কোনো কারণ না জানিয়ে স্ত্রীকে গোপনে তালাক দেন নাজিম। সে সময় তাদের একমাত্র কন্যাসন্তানের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। তালাক দেওয়ার পরপরই নাজিম সিঙ্গাপুরে চলে যান এবং স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে অসহায় ফাহিমা আক্তার নিজের ও সন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে মির্জাপুর পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত নাজিম দেওয়ানকে ভরণপোষণ, দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ মোট ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধের রায় দেন এবং ডিক্রি জারি করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রে প্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তা রি পরোয়ানা জারির পরও নাজিম দেওয়ান একাধিকবার দেশে এলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন। সম্প্রতি তিনি পুনরায় দেশে ফিরলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে
গ্রে প্তার করে। গ্রেপ্তা রকৃত নাজিম দেওয়ান উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের মৃত বারেক দেওয়ানের ছেলে। ভুক্তভোগী ফাহিমা আক্তার বলেন, “তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে চরম অবহেলা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এত বছরেও সে আমাদের কোনো খোঁজ নেয়নি।” মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রে প্তারকৃত নাজিম দেওয়ানকে সোমবার দুপুরেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


