আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

জাপান প্রতি সেকেন্ডে রেকর্ড ১.০২ পেটাবিট ইন্টারনেট স্পিড অর্জন করেছে।

জাপান প্রতি সেকেন্ডে রেকর্ড ১.০২ পেটাবিট ইন্টারনেট স্পিড অর্জন করেছে।

 জাপান প্রতি সেকেন্ডে রেকর্ড ১.০২ পেটাবিট ইন্টারনেট স্পিড অর্জন করেছে। এই স্পিডে মাত্র ১ সেকেন্ডেই পুরো নেটফ্লিক্সের ভিডিও ডাউনলোড করা সম্ভব। 



বর্তামানে জাপান হলো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতির ইন্টারনেটের দেশ। গবেষকরা প্রতি সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিটের অসাধারণ গতি অর্জন করেছেন। যা চোখের পলকে পুরো নেটফ্লিক্স লাইব্রেরি ডাউনলোড করার জন্য যথেষ্ট দ্রুত।


আজ শুক্রবার (১১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক, সেরা বিমানবন্দর ও ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবনের সঙ্গে জাপান তার অবকাঠামোগত উন্নতিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে। এটি এখন বিশ্বের দ্রুততম ইন্টারনেটের দেশ। 


জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজির (এনআইসিটি) একটি প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটির ইন্টারনেট ওয়েব ব্রাউজিং ও ডাউনলোডের গতি যুক্তরাষ্ট্রের গড় ইন্টারনেট গতির চেয়ে ৩৫ লাখ গুণ বেশি।


সুমিতোমো ইলেকট্রিক ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সহযোগিতায় এনআইসিটির ফোটোনিক নেটওয়ার্ক ল্যাবরেটরি দল, বিশ্বের দ্রুততম ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছে। এ ইন্টারনেট ১৯ কোর বিশিষ্ট একটি বিশেষ ফাইবার অপটিক কেবল ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ৮০৮ কিলোমিটার বেগে ডেটা পাঠাতে পারে।


ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সুমিতোমো ইলেকট্রিক অপটিক্যাল ফাইবার কেবলটি ডিজাইন করেছে ও এনআইসিটি একটি আন্তর্জাতিক দলের সহযোগিতায় ট্রান্সমিশন সিস্টেমটি তৈরি করেছে।


এনআইসিটির গবেষকরা ট্রান্সমিটার, রিসিভার ও ৮৬.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১৯টি লুপিং সার্কিট ব্যবহার করেছেন। এই লুপের মধ্য দিয়ে সংকেতগুলো রেকর্ড গতিতে ২১ বার মোট ১ হাজার ৮০৮ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে ও ১৮০টি ডেটা স্ট্রিম বহন করেছে বলে এনডিটিভির ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 


গ্যাজেটের তথ্য অনুসারে জানা যায়, জাপানের নতুন ইন্টারনেট গতির মাধ্যমে প্রায় ১০০ গিগাবাইট জায়গা দখল করা পুরো ইংরেজি উইকিপিডিয়া এক সেকেন্ডে ১০ হাজার বার ডাউনলোড করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া এক সেকেন্ডের মধ্যে ৮ কে মানের ভিডিও ডাউনলোড করা সম্ভব হবে। অপটিক ফাইবার কেবলটি ০.১২৫ মিলিমিটার পুরু, যা আমাদের বর্তমান ইন্টারনেট অবকাঠামোতে ব্যবহৃত তারের মতোই আকারের।

সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ক্যানসার আক্রান্ত হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা

ক্যানসার আক্রান্ত হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা

 


হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেন ফন্ডা। একই সঙ্গে তিনি একজন লেখিকা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক ফ্যাশন মডেল ও শরীরচর্চা গুরু। সম্প্রতি তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এটি নিয়ে মোটেও চিন্তিত না এ অভিনেত্রী।

এ নিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য ক্যানসার। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮০ শতাংশ মানুষ বেঁচে থাকে, তাই আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি। আমি ঠিক করেছি ৬ মাস কেমোথেরাপি নিবো। আর সব চিকিৎসা ভালোভাবে করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পরিণতিপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে বসবাস করছি। কারণ আমরা এখন যা করি বা না করি তা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ কেমন হবে এবং আমি ক্যানসারকে আমাকে সব কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে দেব না। ক্যানসার একজন শিক্ষক ও আমি এটি আমার জন্য ধারণ করা পাঠের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছি।

তরুণ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জলবায়ু সংকট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ফন্ডা সক্রিয় হয়েছেন। এরপর ২০১৯ সালে ‘ফায়ার ড্রিল শুক্রবার’ নামে একটি প্রচেষ্টা শুরু করেন

হোয়াটসঅ্যাপে দীর্ঘদিনের পুরোনো চ্যাট পাওয়া যাবে নিমিষেই

হোয়াটসঅ্যাপে দীর্ঘদিনের পুরোনো চ্যাট পাওয়া যাবে নিমিষেই

 


প্রযুক্তির সঙ্গেই এখন আমাদের বসবাস। সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকেন। গুগলের মতো এখন হোয়াটসঅ্যাপও নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত চ্যাট তো আছেই সেই সঙ্গে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ, ফাইল শেয়ারের জন্যও ব্যবহার হচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি।

তবে অনেকেই একটি সাধারণ সমস্যায় পড়েছেন। তা হলো পুরোনো চ্যাট খুঁজে না পাওয়া। আর পেতে হলে অনেক সময় নিয়ে সেটি খুজতে হয়। তবে এখন খুব সহজেই পুরোনো চ্যাট খুঁজে বের করা যাবে। সেই সুবিধার জন্য নতুন ফিচার নিয়ে এলো হোয়াটসঅ্যাপ।

হোয়াটসঅ্যাপ এখন এক ক্লিকে তারিখ ধরে চ্যাট সার্চ করার ফিচার আনতে চলেছে। যদিও এই ফিচার নিয়ে দুই বছর আগে কাজ শুরু করেও থামিয়ে দিয়েছিল প্ল্যাটফর্মটি। তবে এবার আবার কাজ শুরু করেছে ফিচারটি নিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে খুব শিগগির ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

হোয়াটসঅ্যাপ ট্র্যাকার ডব্লিউবিটাইনফোর এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে এই ফিচার সম্পর্কে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ফিচার কাজে আসবে কোনো চ্যাটে প্রথম কী কথা হয়েছিল তা খুঁজে পেতে। এর জন্য সার্চ বারে একটা ক্যালেন্ডার আইকন জুড়ে দেওয়া হবে, সেটায় ক্লিক করলেই কাজ হয়ে যাবে।

তবে দুঃসংবাদ হচ্ছে শুরুতে আইফোন ব্যবহারকারীরাই শুধু এই সুবিধা পাবেন। জানা যাচ্ছে, আইওএস ভার্সনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে। খুব শিগগির বিটা টেস্টারদের নিয়ে ট্রায়ালও দেওয়া হবে বাজারে ফিচার ছাড়ার আগে।

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বাড়ি ফিরে কলবেল বাজাল হারানো বিড়াল

বাড়ি ফিরে কলবেল বাজাল হারানো বিড়াল

 


ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (ইউপিআই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিউইয়র্কের বাসিন্দা স্টেফানি হুইটলির পোষা বিড়াল লিলি। বয়স আট বছর পেরিয়েছে। সাধারণত সারা দিন নিজের মতো ঘুরে বেড়ায় বিড়ালটি। রাত হলে নিজে নিজে বাড়িতে ফিরে আসে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারসহ লং আইল্যান্ডের একটি বাড়িতে ওঠেন স্টেফানি। এখানে এসেও লিলি আগের মতোই ঘোরাফেরা করত।

তবে হঠাৎই এক রাতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে। সেই রাতে লিলি আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর দিন পেরিয়ে রাত আসে, রাত পেরিয়ে দিন, কিন্তু লিলির দেখা পাওয়া যায়নি। স্টেফানি বুঝতে পারেন, লিলি বাড়ি ফেরার পথ ভুলে গেছে। হারিয়ে গেছে প্রিয় লিলি। আশপাশে খুঁজেও তিনি লিলির দেখা পাননি। পোষা বিড়াল হারিয়ে যাওয়ায় মন খারাপ স্টেফানি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের।

এর চার দিন পর লিলি নিজে নিজেই বাড়ির দরজায় এসে হাজির হয়। কলবেল চেপে ফিরে আসার কথা জানান দেয়। হঠাৎ বেজে ওঠা কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলেই লিলিকে দেখতে পান স্টেফানি। খুশিতে ভরে ওঠে তাঁর মন। পুরো ঘটনাটি স্টেফানির বাড়ির দরজায় থাকা ভিডিও ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।

লিলি ফেরত আসার পর স্টেফানি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘লিলি একটা স্মার্ট বিড়াল। লিলিকে ফেরত পেয়ে আমরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম, কেঁদে ফেলেছিলাম। আমাদের পরিবারের জন্য এটা অসাধারণ একটা মুহূর্ত ছিল।

তিন কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান হারাচ্ছেন

তিন কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান হারাচ্ছেন

 


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও 
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং
ছবি: রয়টার্স

সি ও পুতিন—দুজনই সমরখন্দ গিয়েছিলেন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে। আট দেশ নিয়ে গঠিত এ নিরাপত্তা জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন ও রাশিয়া। চলতি সপ্তাহে জোটে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে ইরানও।

ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর ২০০ দিনের বেশি সময় গড়িয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। খবর এসেছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে রুশ বাহিনীর পিছু হটার। এমন বাস্তবতায় পুতিনের অভ্যর্থনায় উপস্থিত না থেকে সাভকাতের কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ রাশিয়ার সঙ্গে উজবেকিস্তানের সম্পর্কের মোড় বদলের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। এ নিয়ে লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল এশিয়া ডিউ ডিলিজেন্সের উজবেকিস্তান বংশোদ্ভূত পরিচালক আলিশের উলখামভ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘পুতিনকে সম্পদ নয়, বরং বোঝা হিসেবে ধরে নিয়ে এমন আচরণ করা হচ্ছে। এ যেন একজন পরাজিত ব্যক্তিকে সহ্য করা।’  

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরুর আগে এটাই মনে হচ্ছিল যে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পুতিনের প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আগের মাস জানুয়ারিতে কাজাখস্তানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থামাতে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন কালেকটিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (সিএসটিও) কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই জোটের কয়েক শ সেনাসদস্যকে কাজাখস্তানে পাঠানো হয়।

পুতিন যখন শীর্ষে

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরুর আগে এটাই মনে হচ্ছিল যে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পুতিনের প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আগের মাস জানুয়ারিতে কাজাখস্তানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থামাতে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন কালেকটিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (সিএসটিও) কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই জোটের কয়েক শ সেনাসদস্যকে কাজাখস্তানে পাঠানো হয়।

২০২১ সালের আগস্টে পশ্চিমা সমর্থিত আফগান সরকারকে হটিয়ে দেশটির দখল নেয় তালেবান। ওই ঘটনা সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা পাওয়া মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে রাশিয়ার প্রভাব বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল।

‘যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে আমরা একটি নতুন জোট গড়ে উঠতে দেখব। সেটি রাশিয়াকেন্দ্রিক হবে না। এটি গড়ে উঠবে বেইজিং ও তার কমরেডদের তৈরি করা ছাঁচে।’  
ইগার তিশকেভিচ, কিয়েভভিত্তিক বিশ্লেষক

এর আগের বছরে সিএসটিও সদস্য আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে রাশিয়া। ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার শান্তিরক্ষীও মোতায়েন করে ক্রেমলিন। নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চলে সংঘর্ষের জেরে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ থামাতেই শান্তিচুক্তির ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল রাশিয়া।

আগে থেকেই অবশ্য আর্মেনিয়ায় রাশিয়ার সেনাঘাঁটি ছিল। আর জর্জিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন দুটি অঞ্চলেও দেশটির সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে। ইরান ও তুরস্কের সীমান্ত–সংলগ্ন দক্ষিণ ককেশাসে এ দেশগুলোয় রুশ সেনা উপস্থিতির অর্থ হলো, এ অঞ্চলে সামরিক দিক দিয়ে কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে মস্কো।

মধ্যপ্রাচ্যেও রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ওই অঞ্চলে সোভিয়েত সরকারের যে প্রভাব ছিল, তার কিছুটা ফিরিয়ে আনতে মস্কোকে সহায়তা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে রুশ বোমারু বিমানগুলো। দীর্ঘদিন ধরে চলা সিরিয়া যুদ্ধকে ক্রেমলিন ব্যবহার করেছে তাদের নতুন সব সমরাস্ত্রের প্রচার চালাতে এবং সেগুলোর বিক্রি বাড়াতে।

ইউক্রেনের রাস্তায় টহলরত রুশ বাহিনী
ইউক্রেনের রাস্তায় টহলরত রুশ বাহিনী
ফাইল ছবি: রয়টার্স

‘কাগুজে বাঘ’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞার চাপের মুখে থাকা রাশিয়ার ইউক্রেনে বিপত্তিতে পড়া নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেমনটা দেখা গেছে চলতি সপ্তাহে নাগার্নো-কারাবাখে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায়।

যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক কেভর্ক ওস্কানিয়ান আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইউক্রেনে দুর্বল হওয়া রাশিয়া আজারবাইজানের রাজধানী বাকুকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। এর মধ্য দিয়ে মস্কো এটাই দেখিয়েছে যে নাগার্নো-কারাবাখে শান্তিরক্ষা মিশনের বাইরে গিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপে তাদের কোনো ইচ্ছা নেই।’  

আড়ম্বর ও গাম্ভীর্যে রানির শেষকৃত্য

আড়ম্বর ও গাম্ভীর্যে রানির শেষকৃত্য

 


রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যের চূড়ান্ত পর্বটি আজ সোমবার শুধু যুক্তরাজ্যের জাতীয় শোক প্রকাশের উপলক্ষ নয়, বরং একই সঙ্গে হয়ে উঠছে সাম্প্রতিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সমাবেশ।

ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে গির্জায় ধারণক্ষমতা দুই হাজার। তাই পাঁচ শতাধিক বিদেশি অতিথির বাইরে অন্যদের সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকবে। তবে যেখানে রানির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছিল সেই ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নেওয়া এবং লন্ডন থেকে তাঁর নির্ধারিত সমাধিস্থল উইন্ডসর ক্যাসলে নেওয়ার পথে বিপুল জনসমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিনের ওপর রাখা হয়েছিল ইম্পিরিয়াল স্টেট ক্রাউন
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিনের ওপর রাখা হয়েছিল ইম্পিরিয়াল স্টেট ক্রাউন
ছবি: এএফপি

ইউরোপ ও আরব দেশগুলোর রাজা-বাদশাহ, জাপানের সম্রাট ও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টসহ শতাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করতে লন্ডনে যেমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছে, তেমনই সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ ও চলাচলের সুযোগও বহাল রাখতে হয়েছে।

এই দুইয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে বিদেশি অতিথিদের জন্য পরামর্শ ছিল বাণিজ্যিক যাত্রী বিমানে যাতায়াত করার এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মূল অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সরকারিভাবে ঠিক করা বাস ব্যবহারের।

আরও পড়ুন

কেমন ছিল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও ডায়ানার সম্পর্ক

কেমন ছিল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও ডায়ানার সম্পর্ক

যাঁরা সাধারণ যাত্রী বিমানে না এসে বিশেষ বিমানে ভ্রমণ করেছেন, তাঁদের বিমান হিথরো, গ্যাটউইক কিংবা লুটনেও নামতে দেওয়া হয়নি। শুধু লন্ডনে স্ট্যান্সটেড বিমানবন্দরে সেগুলো অবতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়।

বাসে চেপে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরামর্শে প্রশ্ন ওঠে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে কি বাসে চড়ানো হবে? যুক্তরাজ্য সরকারের তরফে তখন জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তিনি তাঁর বিস্ট ওয়ান নামে পরিচিত নিজস্ব গাড়িতেই চড়বেন। ছাড় পেয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁও। দ্বিস্তরের এ ব্যবস্থা নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন অবশ্য বলেছেন, বাসে চড়ায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

বাড়তি নিরাপত্তার জন্য লন্ডনের কেন্দ্রে কিছুটা জায়গায় বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলেও লোকজনের যাতায়াত বন্ধ করা হয়নি। সাত থেকে দশ লাখ মানুষ ছয় থেকে আট ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে রানির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে গেছেন।

তাঁদের সবাইকে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁদের সবাই যে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা তা–ও নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দূর থেকেও অনেকে এসেছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি বৈশ্বিক কৌতূহল বা আগ্রহের পুরোটাই যাতে আত্মস্থ করা সম্ভব হয়, সে জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।

আরও পড়ুন

যতবার পর্দায় এসেছে রানি এলিজাবেথ ও রাজপরিবারের কাহিনি

যতবার পর্দায় এসেছে রানি এলিজাবেথ ও রাজপরিবারের কাহিনি

রানির পরিণত বয়সে আকস্মিক মৃত্যু হলেও তাঁর এ শেষকৃত্যের অতি দীর্ঘ আচার-আয়োজন হঠাৎ কিছু নয়। এর পেছনে আছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। লন্ডন ব্রিজ ইজ ডাউন বা অপারেশন লন্ডন ব্রিজ নামের এ আয়োজন মূলত পুরোটাই সামরিক কার্যক্রম। রানির ৭০ বছরের রাজত্বকালে বহুবার এ পরিকল্পনার হালনাগাদ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা ছিল সেনাবাহিনী ও চার্চের, অর্থাৎ রানি খ্রিষ্টধর্মের যে প্রোটেস্ট্যান্ট ধারার প্রধান ছিলেন, সেই ধারার যাজকদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় যাঁরা নেতৃত্ব দেন, তাঁদের। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অ্যাডমিরাল স্যার টনি রাডাকিন বিবিসিকে জানান যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শেষযাত্রায় তিন বাহিনীর ছয় হাজার সদস্য অংশ নিলেও পুরো কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন মোট দশ হাজার সেনাসদস্য।

এ আয়োজনে সৌদি রাজপরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতির খবরে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সল।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ 
রয়টার্স ফাইল ছবি

চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল ওয়েস্টমিনস্টার হলে রানির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে চাইলে হাউস অব কমন্সের স্পিকার লিন্ডসে হয়েল তার অনুমতি দেননি। কয়েকজন এমপির ওপর চীন সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণেই তিনি পার্লামেন্টের চৌহদ্দিতে তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের পটভূমিতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় রুশ প্রেসিডেন্টকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে লন্ডনে নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূত শেষকৃত্যে অংশ নেবেন বলে কথা আছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লিজ ট্রাস দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন হওয়ার আগেই রানির মৃত্যু হয় এবং এই বিশালাকারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রানির মৃত্যুর পর থেকে তাঁর মরদেহ সমাহিত হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোয় রানির মরণোত্তর আয়োজনগুলো সংবাদ শিরোনাম হয়ে আছে।

টেলিভিশনের পর্দায় এ উপস্থিতি শুধু আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বড় বড় আসরের সঙ্গে তুলনীয়। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য যে ৩৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে, মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ১০ শতাংশের ঘরে এবং জ্বালানিসংকটের কারণে আসন্ন শীতে জীবনহানির শঙ্কা, এ সবকিছুই চাপা পড়েছে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু ও তাঁর শেষকৃত্যের আড়ম্বরপূর্ণ অথচ গাম্ভীর্যময় আয়োজনের নিপুণ ব্যবস্থাপনায়।


রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

 

নামিদামি সংবাদমাধ্যম পড়া বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝুঁকছে তরুণ প্রজন্ম। এরমধ্যে তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছেন টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মে। ছোট আকারের ভিডিও তৈরি ও আদান-প্রদানের সুযোগ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই টিকটক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ব্যবহারকারীদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে এবার ‘পপুলার ফিড’, ‘কি–ওয়ার্ড মিউট’, ‘রিসেট: ফর ইউ’, ‘ডিসপারসন’ নামের নতুন সুবিধা চালু করেছে টিকটক। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে টিকটক কর্তৃপক্ষ।

টিকটকে যুক্ত হওয়া সুবিধাগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ‘পপুলার ফিড’। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১৩ থেকে বেশি বয়সীরা নিজেদের বয়স উপযোগী ভিডিও দেখতে পারবেন।

‘কি–ওয়ার্ড মিউট’ সুবিধার মাধ্যমে চাইলেই নিজেদের ফিডে নির্দিষ্ট কি–ওয়ার্ড বা হ্যাশট্যাগ নির্বাচন করে কনটেন্ট ফিল্টার করা যাবে। ‘রিসেট: ফর ইউ’ সুবিধা চালুর ফলে টিকটকের প্রদর্শন করা ভিডিও পছন্দ না হলে রিসেট করে নতুন ভিডিও দেখা যাবে। ‘ডিসপারসন’–এর মাধ্যমে নিজেদের তৈরি ভিডিও সহজেই প্রচার করার সুযোগ মিলবে।

আরও পড়ুন:  ভিডিওর সময় বাড়াচ্ছে টিকটক

নতুন সুবিধা চালুর পাশাপাশি ‘কনটেন্ট লেভেলস’ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে টিকটক। এটি চালু হলে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী ভিডিওতে বয়স উল্লেখ করে দেয়া হবে। ফলে ১৮ বছরের নিচের দর্শকদের ভিডিও দেখে বিব্রত বা ভয় পেতে হবে না।

এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভিডিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও টিকটক ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী ভিডিও প্রচার করতে পারবে।