বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

ভুল করে অন্য নাম্বারে টাকা পাঠানো বন্ধে ব্যবস্থা নিল বিকাশ অ্যাপ

ভুল করে অন্য নাম্বারে টাকা পাঠানো বন্ধে ব্যবস্থা নিল বিকাশ অ্যাপ

Channelionline.nagad-15.03.24

ভুল করে অন্য নাম্বারে টাকা পাঠানো বন্ধে ব্যবস্থা নিল বিকাশ অ্যাপ


গ্রাহকের লেনদেন আরও নির্ভুল ও সুরক্ষিত করতে বিকাশ অ্যাপের ‘সেন্ড মানি’ সেবায় যুক্ত হলো আরও একটি সতর্কীকরণ ধাপ বা ‘ডিসক্লেইমার’। সেভ করা নাম্বারের বাইরে অন্য কোনো নাম্বারে তাড়াহুড়ো করে সেন্ড মানি করার সময় ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানোর বিড়ম্বনা এড়াতেই বিকাশ অ্যাপে এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে বিকাশ অ্যাপে সেভ করা নাম্বার ছাড়া অন্য কোনো নাম্বারে ‘সেন্ড মানি’ করার সময় একটি ‘ডিসক্লেইমার প্রম্পট’ বা সতর্কীকরণ বার্তা দেখা যাবে, যেখানে বলা আছে ‘নাম্বারটি সঠিক কি না তা অনুগ্রহ করে আবার চেক করুন’। সেই অনুযায়ী নাম্বারটি নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী ধাপে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে সেন্ড মানি করলেই ভুল নাম্বারে টাকা পাঠনোর কোনো বিড়ম্বনা থাকে না।

‘সেন্ড মানি অটো পে’ সেট করার সময় এবং ‘গ্রুপ সেন্ড মানি’-তে সেভ করা নাম্বারের বাইরে অন্য কোনো নাম্বার যোগ করার সময়েও এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে নজর রাখলে ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানোর কোনো বিড়ম্বনাই থাকে না-
১. নতুন কোনো নাম্বারে সেন্ড মানি করার আগে প্রাপকের সাথে কথা বলে নাম্বারটি নিশ্চিত করে নেয়া যেতে পারে।
২. সেভ করা নাম্বার ছাড়া অন্য কোনো নাম্বারে সেন্ড মানি করার সময় নাম্বারটি কয়েকবার মিলিয়ে নেয়া ভালো।
৩. টাকার পরিমাণ প্রবেশ করার পর টাকার অংক ঠিক আছে কি না তা দেখে নেয়া দরকার।
৪. ভুল নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে ফেললে দ্রুত বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭, অফিশিয়াল ওয়েবসাইট/ লাইভ চ্যাট অথবা ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করতে হবে।

সুরক্ষিত এই সেন্ড মানি সেবার পাশাপাশি এই মুহূর্তে বিকাশ গ্রাহকরা মোবাইল রিচার্জ, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, মার্চেন্ট পেমেন্ট, অ্যাড মানি, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধ, ই-টিকেটিং, ডোনেশন, বিদেশ থেকে রেমিটেন্স গ্রহণ, ইন্স্যুরেন্স ও মাইক্রোফাইন্যান্স এর পেমেন্ট, ডিজিটাল ন্যানো লোন ও সেভিংসসহ নানান সেবা ব্যবহার করছেন।

সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

একযোগে র‍্যাবের ৬ ব্যাটালিয়নে নতুন অধিনায়ক

একযোগে র‍্যাবের ৬ ব্যাটালিয়নে নতুন অধিনায়ক

 


র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ছয়টি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে (সিও) একযোগে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া বাহিনীটির আরও পাঁচটি উইংয়ের পরিচালকদেরও বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদল করা হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, র‍্যাব-৮ এর অধিনায়ক করা হয়েছে লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসানকে, র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক করা হয়েছে লে. কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রহমানকে, র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খানকে, র‍্যাব-১২ এর অধিনায়ক করা হয়েছে মো. মারুফ হোসেনকে, র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক করা হয়েছে মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনকে ও র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক করা হয়েছে মোহাম্মদ মহিবুল ইসলামকে।

এছাড়া র‍্যাব সদর দপ্তরের অপারেশনস ইউংয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন লে. কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান তালুকদার, র‍্যাব সদর দপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ ইউংয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত, র‍্যাব সদর দপ্তরের যোগাযোগ ইউংয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন উইং কমান্ডার মো. রোকনুজ্জামান, র‍্যাব সদর দপ্তরের ট্রেনিং উইংয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রফিকুল ইসলাম গণি, র‍্যাব সদর দপ্তরের তদন্ত ইউংয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলিমুজ্জামান।

একই আদেশে র‍্যাব-৪ এর পুলিশ সুপার বেগম জয়িতা শিল্পীকে র‍্যাব-১৪, ক্যাপ্টেন ফয়সাল ইবনে মঈনকে র‍্যাব সদর দপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ ইউংয়ে, লেফটেন্যান্ট আবুল হাশেম সবুজকে র‍্যাব-১২, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মতিয়ার রহমানকে র‍্যাব-১১ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসানকে র‍্যাব-৩ এ পদায়ন করা হয়েছে।

‘কোহলি আমাদের তিন নম্বর ওপেনার’

‘কোহলি আমাদের তিন নম্বর ওপেনার’

 


এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস ওপেন করতে নেমেই বাজিমাত করেছিলেন বিরাট কোহলি। করেছিলেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর সেঞ্চুরি পাওয়ার কারণে উচ্ছ্বসিত কোহলি থেকে শুরু করে পুরো ভারতের মানুষ। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠছে, বিরাট কোহলিকে দিয়ে যেন টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস ওপেন করানোর জন্য।

কিন্তু এ নিয়ে আসলে টিম ইন্ডিয়ার ভাবনা কী? ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট কী কোহলিকে দিয়ে ইনিংস ওপেন করাবে? কোহলি কী আবারও রোহিত শর্মার ওপেনিং পার্টনার হয়ে উঠবেন? ভক্তদের চাওয়া-পাওয়ার মূল্যায়ন কী সত্যিই তারা করবে?

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর। সিরিজ সামনে রেখে আজ মোহালিতে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছে অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সেখানেই তাকে দিতে হয়েছে কোহলিকে ওপেনার হিসেবে খেলানো হবে কি হবে না সে প্রশ্নের জবাব। সে সঙ্গে সব গুঞ্জনের সমাধানও করে দিয়েছেন।

অধিনায়ক রোহিত শর্মা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভারতীয় দলের অন্য ওপেনার অবশ্যই লোকেশ রাহুল। তার অবস্থানের নড়চড় হবে না। বিরাট কোহলি ইনিংস ওপেন করতে পারেন, তবে নিয়মিত নয়। মাঝেমধ্যে। তিনি মূলতঃ তৃতীয় ওপেনার হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারেন।

রোহিত শর্মা বলেন, ‘রাহুল (দ্রাবিড়) ভাই এবং আমি ওপেনিং বিষয়টা নিয়ে অনেক আলাপ করেছি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিরাট কোহলিকে দিয়ে কিছু কিছু ম্যাচে ওপেন করানো হবে। কারণ, তিনি আমাদের তৃতীয় ওপেনার।’

‘সর্বশেষ ম্যাচে (আফগানিস্তানের বিপক্ষে) আমরা দেখেছি (ওপেনার হিসেবে) তিনি কি করেছেন। আমরা সত্যিই এ ব্যাপারে খুবই খুশি।’ আফগানদের বিপক্ষে ওপেন করতে নেমে অপরাজিত ১২২ রান করেছিলেন কোহলি।

লোকেশ রাহুলই রোহিত শর্মার সঙ্গে মূল ওপেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। রোহিত বলেন, ‘লোকেশ রাহুলই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের হয়ে ইনিংস ওপেন করবেন। আমরা এই পজিশনে খুব বেশি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে যাবো না।’

কি অবস্থায় আছে বিপিএল? ফ্র্যাঞ্চাইজি হচ্ছে কারা?

কি অবস্থায় আছে বিপিএল? ফ্র্যাঞ্চাইজি হচ্ছে কারা?

 


বিপিএল হচ্ছে সব সম্ভবের আসর। যার শেষ বলে কিছু নেই। সেই শুরু থেকেই এ কথা প্রচলিত। কাজেই এবারও শেষ পর্যন্ত কি হবে? কোন কোন কর্পোরেট হাউজ অংশ নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

তবে এখনকার খবর, আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যে বিপিএলের আসর বসবে, তাতে বড় ও নামী ফ্র্যাঞ্চাইজি বলে প্রতিষ্ঠিত বেক্সিমকো এবং জেমকন গ্রুপ দল নিতে আগ্রহ দেখায়নি।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৯টি কর্পোরেট হাউজ বিপিএলে দল নিতে আগ্রহী । তার মধ্যে আখতার গ্রুপ (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স), বসুন্ধরা গ্রুপ (রংপুর রাইডার্স), প্রগতি গ্রুপ (সিলেট সানরাইজার্স), ফরচুন গ্রুপের (বরিশাল) মত পুরোন ফ্র্যাঞ্চাইজি দল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এছাড়া দুটি নতুন কর্পোরেট হাউজও আবেদন করেছে। সেখানে সাকিব আল হাসানের মোনার্ক মার্ট এবং মাইন্ড ট্রি নামের আরেকটি কর্পোরেট হাউজও আছে।

এর পাশাপাশি আগ্রহী ফ্র্যাঞ্চাইজির তালিকায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও শেষ পর্যন্ত আবেদন জমা দিয়েছে। জানা গেছে, তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি হওয়ার আবেদন করেছে নির্ধারিত সময়ের পর।

মোট কথা ৯টি কর্পোরেট হাউজ এখন পর্যন্ত আবেদন করেছে। সেখান থেকে ৭টি হাউজকে চূড়ান্ত করা হবে। কবে সেই নামগুলো প্রকাশ করা হবে এবং কারা কারা হবে বিপিএল ২০২৩-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি?

তা জানতেও ক্রিকেট অনুরাগীদের রাজ্যের আগ্রহ। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করার ঘোষণা বহুদুরে, তার দিন তারিখও জানানো হয়নি।

আজ রোববার এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিসিবি সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন জানালেন, আমাদের যারা আবেদন করেছে, সেটা আইসিসির গাইডলাইন মেনে। এর মাঝে ২-১ জন নতুনও আছে। সে কারণে আমাদের যাচাই-বাছাইয়ের ব্যাপার আছে। তবে তিনি যোগ করেন, ‘এগুলো আমরা করে ফেলছি।’

বিসিবি সিইও আরও জানান, তারা (বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল) এখন আসরের স্পন্সরশিপ নিয়েই মূলতঃ ব্যস্ত। তাই তার মুখে একথা, ‘অন্য যে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো আছে বিশেষ করে স্পন্সরশিপ, অন্যান্য বিষয়- এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা হয়তো যখন একটা পূর্ণাঙ্গ বিষয় পাবো, তখন আপনাদের জানাতে পারবো।’

বন্যার্তদের ফ্রি টিকিট দেবে পাকিস্তান

বন্যার্তদের ফ্রি টিকিট দেবে পাকিস্তান

 


মঙ্গলবার থেকে মাঠে গড়াবে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সাত ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এ সিরিজের প্রথম চার ম্যাচ হবে করাচিতে। পরে শেষ তিন ম্যাচ খেলতে লাহোরে চলে যাবে দুই দল।

এই সিরিজে বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের ফ্রি টিকিট দেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। গত জুন থেকে শুরু হওয়া বন্যার কবলে পড়ে করাচিতে অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেক মানুষ। তাদেরকে ফ্রি-তে খেলা দেখার সুযোগ দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) ডিআইজি মাকসুদ মেমন সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন এ খবর। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা ও বোর্ডের অন্য কর্মকর্তারা মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাকসুদ বলেছেন, ‘আমরা পিসিবি চেয়ারম্যান ও জাকির খানের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ম্যাচ চলাকালে বন্যায় আক্রান্ত পরিবারদের স্টেডিয়ামে ফ্রি টিকিট দিতে রাজি হয়েছে। এই কঠিন সময়ে স্টেডিয়ামে ফ্রি-তে খেলা দেখতে পারা তাদের মুখে হাসি ফোটাবে।’

এদিকে করাচির আইজি জাভেদ আলম জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি। তাদের প্রতিশ্রুত নিরাপত্তা পুরোটাই দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের এ কর্মকর্তার আশা, করাচিতে পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষ নির্বিঘ্নে ম্যাচ উপভোগ করতে পারবে।

শাহিনকে বিশ্বকাপ খেলতে বারণ সাবেক পাকিস্তানি পেসারের

শাহিনকে বিশ্বকাপ খেলতে বারণ সাবেক পাকিস্তানি পেসারের

 


হাঁটুর ইনজুরির কারণে সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপ ও তার আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারেননি শাহিন শাহ আফ্রিদি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাত ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারবেন না তিনি।

আপাতত চোট কাটিয়ে ফেরার লক্ষ্যে লন্ডনে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ২২ বছর বয়সী এ বাঁহাতি পেসার। আগামী ১৫ অক্টোবর সরাসরি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন শাহিন। মাঝে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজেও থাকবেন না তিনি।

মূলত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরোপুরি ফিট পাওয়ার জন্যই শাহিনকে এসব সিরিজ থেকে সরিয়ে রেখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে দেশটির সাবেক পেসার আকিব জাভেদ মনে করেন, শাহিনের আসলে বিশ্বকাপেও খেলা ঠিক হবে না।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আকিব বলেছেন, ‘শাহিন আফ্রিদির মতো ফাস্ট বোলার প্রতিদিন জন্মায় না। শাহিনের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার জন্য। কারণ এই বিশ্বকাপের চেয়েও শাহিন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তেজোদ্দীপ্ত বার্তায় প্রশংসায় ভাসছেন সানজিদা

তেজোদ্দীপ্ত বার্তায় প্রশংসায় ভাসছেন সানজিদা

 


ইতিহাস গড়ার হাতছানি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সামনে। আজ (সোমবার) বিকেল সোয়া ৫টায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে ২০১৬ সালের আসরে ফাইনালে উঠলেও জয় পায়নি নারী দল।

এবার ফাইনালে নামার আগে আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রত্যয়ে বলীয়ান পুরো দল। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচের পর সেমিফাইনালেও সহজ জয়ে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ। এই চার ম্যাচে তারা করেছে ২০টি গোল, বিপরীতে হজম করেনি একটিও।

নেপালে বিপক্ষে ফাইনালের আগে দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে উদ্যমী ও তেজোদ্দীপ্ত এক বার্তা দিয়েছেন নারী দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার সানজিদা আখতার। যা এরই মধ্যে ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিজেদের জিততে চাওয়ার বাসনা পরিষ্কার করা সেই বার্তার প্রশংসায় ভাসছেন সানজিদা।

সানজিদার লেখার অংশবিশেষ উল্লেখ করে বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট আমিনুল ইসলাম নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সানজিদা আখতার নামের মেয়েটার লেখা পড়ে আমার চোখে পানি চলে এসেছে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এই মেয়েটা সাফ ফুটবলের ফাইনাল খেলার অপেক্ষায় আছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রিয় সানজিদা, এই দেশকে তোমরাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছ। তোমারা যদি চ্যাম্পিয়ন না-ও হও; কোন ক্ষতি নেই। কারণ আমরা জানি, কতো বাধা পার হয়ে তোমরা আজ এই জায়গায় আসতে পেরেছ। তাই আমাদের কাছে তোমরাই এই দেশের চ্যাম্পিয়ন।’

এছাড়া প্রায় ১২শ’র বেশি মানুষ সানজিদার সেই লেখাটি শেয়ার করেছেন। প্রায় সবারই মতামত অভিন্ন। সানজিদার সাহসী বার্তার পর ফাইনাল নিয়ে আরও বেশি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সবাই। সকলের আশা, এবার নেপালকে হারিয়ে ঠিকই চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ।

রাতিন রহমান নামের আরেক ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট নিজের প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘সানজিদা আখতার, আপনার শব্দচয়ন আর চিন্তার সুদূরপ্রসারী ব্যাপ্তিতে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এমন দুঃসাহসী সুন্দর আনন্দময়ীদের জন্য বাজি ধরা যায় সবকিছুই! সাবাশ বাঘিনীরা, সবটুকু ভালোবাসা আর শুভকামনা তোমাদের জন্য!’

নিচে সানজিদার পুরো বার্তাটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

২য় বারের মতো সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রথমবার ফাইনাল খেলেছি ২০১৬ সালে। সেবার ভারতের বিপক্ষে আমরা হেরে যাই। ৫ বার সাফের মঞ্চে এসে ১ বার রানার্সআপ, ৩ বার সেমিফাইনাল এবং ১ বার গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছি আমরা।

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এবার মাঠে দারুণ ছন্দে রয়েছি, ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল। স্বাগতিক হিসেবে ফাইনাল খেলা কিংবা স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলা সবসময় রোমাঞ্চকর। এছাড়াও এবারের ফাইনাল ম্যাচটি কিছুটা ভিন্ন। বহুদিন পর সাফ পাবে নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন দেশ। আর তাই এবার রোমাঞ্চকর একটি ফাইনাল ম্যাচ হতে যাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের হাত ধরে ২০০৩ সালে দক্ষিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিলো বাংলাদেশ। এখনো আমরা সেই গল্প শুনি। বাংলাদেশ ফুটবলের বড় সাফল্যের মহাকাব্যে সেটি উজ্জ্বলতম অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার আমাদের জেতার সময় এসেছে। আমাদের দলের প্রতিটি সদস্য এটি জিততে মুখিয়ে আছে।

যারা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই সকল স্বপ্নসারথিদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থণের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনী কে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই। আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরো নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছু হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই।

পাহাড়ের কাছাকাছি স্থানে বাড়ি আমার। পাহাড়ি ভাইবোনদের লড়াকু মানসিকতা, গ্রাম বাংলার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের হার না মানা জীবনের প্রতি পরত খুব কাছাকাছি থেকে দেখা আমার। ফাইনালে আমরা একজন ফুটবলারের চরিত্রে মাঠে লড়বো এমন নয়, এগারোজনের যোদ্ধাদল মাঠে থাকবে, যে দলের অনেকে এই পর্যন্ত এসেছে বাবাকে হারিয়ে, মায়ের শেষ সম্বল নিয়ে, বোনের অলংকার বিক্রি করে, অনেকে পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন হয়ে।

আমরা জীবনযুদ্ধেই লড়ে অভ্যস্ত। দক্ষিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যাবো। জয় - পরাজয় আল্লাহর হাতে। তবে বিশ্বাস রাখুন, আমরা আমাদের চেষ্ঠায় কোনো ত্রুটি রাখবো না ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।